সোমবার , ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনা কালীন উপলব্দি
মনুষত্ব ও প্রকৃতি

আমিনুর রহমান আমিন:

 বিগত ০১ বছরের বেশী সময় ধরে সারাবি মানুষের মাঝে আতংকের নাম করোনা ভাইরাস। দিন দিন অগনিত মানুষ এই ভাইরাসে মারা যাচ্ছে। উঁচু মধ্যম, নীচু কোন সারির লোকই রেহাই পাচ্ছে না।

নতুন করে আতংক কোন উপস্বর্গ ছাড়াই এই ভাইরাস সনাক্ত। স্বয়ং আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী, কৌতহল বশত: সরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার পর রিপোর্ট দেখি পজেটিভ। নেই কোন সর্দি, কাশি, জ¦র তবুও পরীক্ষায় পজেটিভ। তৃতীয় একজন বলে দিল সোজা বাসায় চলে যান। নিজ উদ্যোগে দূরত্ব বজায় রাখুন। আফসোস সু-পরামর্শের জন্য একজন ডাক্তারও পাওয়া গেল না।

উপায়ন্তর না পেয়ে বাসায় এসে একটি রুমে ঢুকে পড়লাম। যতটুকু সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে চলছি। আমার স্বাভাবিক আচরনে অন্যান্যদের ধারনা আমার করোনা পজেটিভ নয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের রিজিষ্টারে লিপিবদ্ধ আমার করোনা পজেটিভ।

অতঃপর আত্নীয় স্বজনের কিৎচিৎ ফোনালাপ, বৃদ্ধ মা জননী জানালার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে বেসামাল ব্যাকুল করে। অপলক দৃষ্টি আবারও প্রমান করে সন্তানের জন্য মায়ের কোলই নিরাপদ আশ্রয়।

সংগঠন থেকে সহ-যোদ্ধাদের নিয়মিত খোঁজ খবর ও অকৃত্রিম ভালবাসায় আমি সিক্ত। তবুও কেন জানি মাথায় ভিড় ভিড় করছে- দিন দিন রক্তের বাঁধনের চিক্র নিঃচিক্র হয়ে দূর কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে।

মানুষের মাঝে হিংসা, ক্ষোভ, লোভ লালসা অন্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপশি সমাজ সামাজিকতা প্রশ্ন বিদ্ধ হয়ে রেষানলে পড়ে তরুন সমাজের কাছে বয়োজৈষ্ঠদের অপমান হতে হচ্ছে। টাকার নেশায় খুন হচ্ছে আত্নীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব নিরীহ মানুষজন। সুদখোর, ঘুষখোরদের উৎপাত বেড়েছে।

ধর্ষনের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার হয় না। বিচারের আশায় কপাল পোড়াদের চোখের পানি মিশে মোহনায়। সত্যিই কি মানব জাতি ধীরে ধীরে মেধাশূন্য হয়ে সৃষ্টির সেরা জীবের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

করোনা কালীনে ঘরে বসে আমার উপলব্ধিতে দেখছি-পশ্চিমা জানালার গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে আছি, যতদূর চোখ যায় একটাই নীল আকাশ একটাই পৃথিবীর বুকে প্রকৃতির কি অপরূপ মিলন মেলা। বর্ষার দিনে আকাশে মেঘের লুকোচুরি খেলা। ঝির ঝির বৃষ্টিতে পানি পুকুরে থৈ থৈ, সবুজ কচুপাতায় এক ফোঁটা বৃষ্টির জলের ঝিলিকে যেন হীরা খসে পড়ছে।

কালো কাক, সাদা বক, কবুতর বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রংধনুর আকাশে ডানা মেলে উড়ছে। হিমেল বাতাসে তরুলতা গাছপালা দোল খাচ্ছে। সারি সারি আম গাছ, জাম গাছ, কাঁঠাল গাছ, পেয়ারা গাছ, লেবু গাছ, কলা গাছ, ফুলের বাগানে ফুলের সৌরভে ভ্রমরের আনাগোনা, উড়ে আসা সবুজ ফড়িং, কাঠ বিড়ালীর দৌড়ঝাপে নীল আকাশ যেন বলে উঠে পৃথিবীটা খুব সুন্দর যখন তখন ঠিক যেন তোমাদেরি মত।

ঝরনার সাথে নদী, নদীর সাথে সাগর, সাগরের সাথে মহাসাগরের কত দারুন মিল। কিন্তু মানুষ মানুষে অমিল। মানুষের মাঝে আজ অক্সিজেনের বড় হাহাকার।

অথচ এই অক্সিজেন আমরা প্রতিনিয়ত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রকৃতি থেকেই গ্রহণ করি। আর আমরা বছরের পর বছর বায়ু দুষিত করে প্রকৃতিকে ধ্বংসের দ্বার পান্তে নিয়ে গেছি। মানব সভ্যতার বাস্তবতা দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।

বিধাতার অপার কৃপায় প্রকৃতি আজ আপন মহিমায় মাথা উঁচু করে হাসে, মানবজাতি ঘরে বসে বসে নীরবে ধুমড়ে মুচড়ে চোখের জলে কাঁদে।

মানুষত্বে ও প্রকৃতিতে এই বৈষম্য শোভা পায় না। মানবজাতিকে এই নিষ্ঠুর বৈষম্য পরিহার করে হৃদয়ে বিশ্বাস অর্জন করে ভালবাসাকে বিয়োগ-ভাগ নয়, যোগ করতে হয়, অনন্ত অসীমে হয় না যেন ভালবাসার ক্ষয়।

লেখক
দপ্তর সম্পাদক
লাকসাম সাংবাদিক ইউনিয়ন