সোমবার , ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে তীব্র তাপদাহে

জনজীবন বিপর্যস্ত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ

তীব্র তাপদাহ আর লকডাউনের কারনে নাকাল হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুড়িগ্রাম জেলার জনসাধারণ । ফলে আমজনতা সহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। বৃষ্টিপাতহীন শ্রাবণ মাসের প্রখর রোদের ঘাম ঝরানো তাপমাত্রার কারণে প্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।

লকডাউন আর তীব্র তাপদাহে অলসতায় কাটছে শ্রমজীবিদের দিন। দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশা চালক, ঠেলা ও ভ্যান চালকরা প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়ছে। একদিকে মহামারী করোনা সংক্রমনের কারণে লকডাউনে আয় রোজগার কমে যাওয়া চরম ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ। কিছুটা কাজ জুটলে তীব্র গরমে সেই কাজ করতেও হিমশীম খেতে হচ্ছে তাদের। এতে করে করোনা এবং তাপমাত্রা প্রভাব পড়েছে সংসারে। তীব্র গরমে বয়স্ক, শিশুরা পড়েছে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে। একটু স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত, পানি, আইসক্রীম খেয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা অনেকের।

চলতি মাসে কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা গড়ে ৩৬ ডিগ্রীতে ওঠানামা করছে। আরো তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার শংকা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্রের উপরও। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সকলেই পুকুর-নদী, বিলে ছোটা ছুটি করছে।

এদিকে প্রচন্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু,বয়স্কদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে করোনার উপসর্গের সঙ্গে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তিনে করোনার উপসর্গের মিল থাকায় আতঙ্কিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তীব্র তাপের কারণে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কৃষি শ্রমিকরা।

এদিকে অসহ্য গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লো ভোল্টেজ আর লোড শেডিংয়ের যন্ত্রণা। তীব্র গরমে ঘরে থাকতে না পেরে মানুষ বিভিন্ন গাছ তলায় দিন পার করছেন।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার নাজিরক এলাকার বাসিন্দা ও সহকারী অধ্যাপক সালাহউদ্দিন রুবেল বলেন,তীব্র গরমের কারণে জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে কয়েক দিন ধরে রাত-দিনে লোড শেডিং বেশি হওয়ায় শিশু,বয়স্কদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রিকশা চালক ছকমল বলেন,প্রায় ২০বছর ধরে রিকশা চালাই। লকডাউনের কারণে ভাড়া কমে গেছে। এরমধ্যে দু-একটা ভাড়া জুটলেও রোদের তাপে শরীর সয় না। দিনে আগে ৭শ/৮শ টাকা আয় হলেও লকডাউন আর গরমের এখন আয় ১শ হতে দেড়শ টাকা হতে চায় না।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যাটারি চালিত অটো চালক সাইফুর রহমান বলেন,লকডাউনের কারণে অটো বের করতে পারি না। চুপ চাপ একটু বের হলেও পুলিশ ধরলেই অটোর সিট খুলে নিয়ে যায়। একটানা অটো বসিয়ে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।

পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারণে ঠিক মতো অটো চার্জ করাও যায় না। বাধ্য হয়েই লকডাউন উপেক্ষা করে পেটে আর অটোর ব্যাটারি যেন নষ্ট না হয় সেজন্য পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হতে হয়। শ্রমিক সামছুল মিয়া বলেন, লকডাউনের কারণে রোজগার কমছে। পিঠের মধ্যে বস্তা উবানো যায় না। এতো পরিমাণে গরম কখনও দেখি নাই।

ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড় এলাকার বুলবুল হোসেন বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে শিশুদের সর্দি আর ডায়রিয়া বেশি হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র বলেন,আগামী ৩০জুলাই হাল্কা হতে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে তাপমাত্রার প্রকোপ কমে আসবে।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন,গত ১৫জুলাই হতে কুড়িগ্রামে গড়ে ৩৪ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রাবণ মাসের গরমে হৃদরোগ,সর্দি,কাশি এবং জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। তিনি পরামর্শ দেন তীব্র গরমের তরল খাবার এবং ছায়া যুক্ত স্থানে আশ্রয় নেবার। যে কেউ অসুস্থ হলে অবহেলা না করে জরুরী ভাবে চিকিৎসকের স্বরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।