সোমবার , ৪ঠা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের করনীয়

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমাঃ
নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার মাধ্যম । এর মাধ্যমে জনগণ যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে থাকেন । এভাবে বাছাইয়ের মাধ্যম যত স্বচ্ছ হবে, জনবান্ধব প্রতিনিধি নির্বাচিত করা ততই সহজ হবে ।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয় । প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়নের ওপরই দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে। সুতরাং নির্বাচন যতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে ততই জনতার আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে । আমাদের দেশে যখন কোনো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন সেটা উৎসবে পরিণত হয় ।
নির্বাচনের সময় যখন নির্ধারণ করা হয় তখন শহরকেন্দ্রিক থাকা লোকগুলো পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য নিজ নিজ এলাকার দিকে ছুটে আসেন । পাশাপাশি দলবেঁধে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে যান । আর এভাবেই সাধারণ জনতা নির্বাচনের আনন্দ উপভোগ করেন । বর্তমানে দেশব্যাপী বইছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া ।
ইতোমধ্যেই কে হবেন মেম্বর, কে হবেন চেয়ারম্যান- এই নিয়ে আলোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জনপদ । গ্রামীণ হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে জমে উঠছে নির্বাচনের তুমুল আলাপ-আলোচনা । এই আলোচনার মধ্যে কেউ খুঁজছেন যোগ্য প্রতিনিধি যা ইউনিয়ন পরিষদকে করবে আলোকিত । আবার কেউ খুঁজছেন কালো টাকার প্রতিনিধি যা ইউনিয়ন পরিষদকে করবে অন্ধকার । ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপনে, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য গড়তে এবং উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা জনগণের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য ।
জনপ্রতিনিধিরা আমাদের মতোই সমাজের একজন সাধারণ মানুষ । কিন্তু তাদের মাঝে এমন কিছু অসাধারণ প্রতিভা বা গুণাবলি আছে যা দ্বারা সমাজ এবং সমাজের মানুষকে আলোকিত করবে ।
এজন্যই আমরা নির্বাচনে তাদের নির্বাচিত করি । যখন দেশে কোনো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তখন সাধারণ জনগণ চাইলে যে কাউকে নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে পারি । কিন্তু প্রতিটা নির্বাচনে আমরা চাই সৎ, যোগ্য, ন্যায়বান, আদর্শবান পাশাপাশি চরিত্রবান একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হোক । যারা দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতা করে পাশে থাকবে এবং ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে । ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধির চেয়ে জনগণের করণীয় বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ । জনগণের কিছু উল্লেখযোগ্য করণীয় আছে, যা যথাযথভাবে পালন করলে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে সক্ষম হবে ।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অশিক্ষিত, অযোগ্য ও সুযোগসন্ধানী জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত না করা । পাশাপাশি শিক্ষিত, সৎ, ন্যায়বান ও যোগ্যতাসম্পন্ন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা । যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য ও সৎ, যার দ্বারা জনকল্যাণমুখী কাজ হবে এবং যিনি জনগণের উপকারে নিবেদিত থাকবেন, তাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত ।
এছাড়া যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচনে নির্বাচিত করতে হলে জনতাকে অবশ্যই অর্থলোভী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে । আর জনগণ যদি অর্থলোভী হয়ে কোনো জনপ্রতিনিধিকে ভোট প্রদান করে, তাহলে নির্বাচনের পরে জনপ্রতিনিধিকে কোনো জবাবদিহির মধ্যে রাখা যাবে না । যার ফলে জনপ্রতিনিধি তার ইচ্ছা মতো যে কোনো কাজ করবে তাতে জনগণের নাক গলানোর কোনো সুযোগ থাকবে না ।
সুতরাং ইউনিয়নের উন্নয়ন তথা যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে হলে অবশ্যই ভোট বিক্রি করা তথা অর্থলোভী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচন আসলে দুষ্ট লোকেরা ভালো মানুষের মুখোশ পরে জনতাকে বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেষ্টা করে । কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের কাজে এবং কথায় কোনোটাই মিল থাকে না ।
সুতরাং প্রকাশ পায় তাদের আসল চেহারা । তাই, নির্বাচনে জনতা যেন দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার পরিবর্তে অযোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত না করে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি ।
পাশাপাশি যাদের নির্বাচিত করলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে তাদের নির্বাচিত করে জনগণ তথা ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য বিপদ ডেকে না আনাই উচিত ।
নির্বাচনে জনগণের সবচেয়ে বড় নাগরিক দায়িত্ব হলো জেনে, শুনে ও বুঝে জনপ্রতিনিধিকে ভোট দেওয়া । আমরা যাতে কালো টাকার খেলা, দুর্নীতি এবং অযোগ্য জনপ্রতিনিধির কাছে জিম্মি না থাকি সেদিকে খেয়াল রাখা ।
কারণ, নির্বাচনের দিন ভোটের মাধ্যমে যে বীজ বপন করা হয়, সেটা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেয়ে থাকি ।
সুতরাং, জেনে, শুনে ও বুঝে ভোট প্রদান না করলে, ভোটাররা খাল কেটে কুমির ডেকে আনবে ।
এছাড়া টাকার বিনিময়ে ভোট প্রদান করলে, পরবর্তীকালে দুর্নীতি, অন্যায় ও অনিয়ম বেড়ে যাবে । আর এদের নির্বাচিত করার মূল উদ্দেশ্য হবে দুর্নীতিবাজদের সাহায্য করা ।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য জনগণকে বেশি সচেতন হতে হবে । জনগণ যদি অসচেতন হয়ে অযোগ্য জনপ্রতিনিধিকে ভোট প্রদান করে, তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে ।
কাজেই মনে রাখতে হবে, ন্যায়পরায়ণ, বিবেকবান, আদর্শবান, নীতিনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সমাজ উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তথা দেশ ও জাতি উপকৃত হবে ।
অপরদিকে, সাধারণ জনতা যদি যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত তথা সমগ্র দেশ পিছিয়ে যাবে ।



ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের করনীয়

আপন আলোয় উজ্জ্বল তুরাগ থানার ওসি (অপারেশন) শেখ মফিজুল ইসলাম

রোজিনা নয় জাতির বিবেক আজ বন্দীশালায়

ছিলারচর ইউনিয়নবাসী তথা বিশ্ববাসীকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- রিপন কাজী

তুরাগে ২হাজার পিস ইয়াবাসহ ১মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মনোহরগঞ্জে পরকীয়ার বলি গৃহবধূ স্বামী-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাওলানা আবুল বয়ান হাশেমির বিরুদ্ধে

লাকসামে মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ৪ পরিবারের উপর হামলা-ভাংচুর আহত-১০: সংবাদটুডে

মনোহরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে আ’লীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষ ৮ জন আহত: সংবাদটুডে